এই সেই মহান মারক্বাদ যেখানে শুয়ে আছেন ইমামুল আইম্মাহ আল্লামা ওয়াকি ইবনুল জাররাহ রহিমাহুল্লাহ। যার কাছে ইমাম শাফেঈ গিয়ে বলেছিলেন: উস্তাদ! যা পড়ি সব ভুলে যাই। কী করব বলুন। ওয়াকি তাকে যে নসীহাহ দিয়েছিলেন আজ শত সহস্র বছর ধরে আওড়ানো হচ্ছে তালিবুল ইলমদের উদ্দেশ্যে। শাফেঈ ছন্দে ছন্দে বলেছেন:
شَكَوتُ إِلى وَكِيعٍ سوءَ حِفظي
فَأرشَدني إِلى تَركِ المَعاصي
وأخبرني بِأنَّ العلمَ نورٌ
ونورُ اللّهِ لا يُهدى لِعاصي
ওয়াকির সনে বলি আমি যাই ভুলে সবি
ওয়াকি বলেন গুনাহ ছাড়ো যদি তুমি
ইলম সে তো কেবল নূরে ইলাহী
কপালে জোটে না যদি হয় পাপী।
এই ইমাম ওয়াকি যেন তেন ব্যক্তিত্ব ছিলেন না। ইমাম আজম রহিমাহুল্লাহর ছাত্র ছিলেন। এই মহান ইমাম ছিলেন হাফিজ। অতি নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস ও শ্রেষ্ঠ হাদীসবিদদের একজন। বিশিষ্ট ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি এত বড় আলিম ছিলেন যে তার উস্তাদরা পর্যন্ত তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তার উস্তাদের তালিকা বিশাল। প্রসিদ্ধদের মধ্যে আছেন ইমাম আল আওযায়ী থেকে শুরু করে হিশাম ইবনে উরওয়াহ ও সুলাইমান আল আ’মাশ। সুফিয়ান ছাওরী রহিমাহুল্লাহও তার উস্তাদ। কিন্তু উস্তাদ হয়েও ছাত্র থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে আছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক। ইবনুল মুবারক তার উস্তাদের চেয়েও বয়সে বড় ছিলেন। হুমায়দীর মত মুহাদ্দিস ওয়াকি ইবনুল জাররাহের ছাত্র। ভাবা যায়!
ইবনু আম্মার বলেন: ওয়াকির যুগে কুফায় তাঁর চেয়ে বেশি ফিকহবিদ বা হাদীস সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কেউ ছিল না।
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন: আমার চোখ কোনোদিন ওয়াকির মতো কাউকে দেখেনি। তিনি হাদীস মুখস্থ রাখতেন। ফিকহ নিয়ে আলোচনা করলে সুন্দরভাবে করতেন। তাঁর মধ্যে ছিল তাকওয়া ও অধ্যবসায় এবং তিনি কখনো কারো সম্পর্কে কটু কথা বলতেন না।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহিমাহুল্লাহ তো তার উস্তাদকে যুগের আওযায়ী বলতেন।
তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৭ হিজরিতে। আমি যখন এই কবরের সামনে দাঁড়াই তখন আমার অনুভূতি কেমন ছিলো বলে বোঝানোর মত না। বারবার ভাবছিলাম: ইনিই তো তিনি যিনি শাফেঈকে নসীহত করেছিলেন। তার সম্পর্কে এত বড় বড় ইমামরা এত দামী দামী কথা বলেছিলেন। আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ!