সহিহ বুখারীর জগদ্বিখ্যাত ব্যাখাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী শরহুল বুখারী’ কিতাবের লেখক ইমামুল মুহাদ্দিসীন ও আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস আল্লামা ইবনে হাজার আসক্বলানী রহিমাহুল্লাহ মারক্বাদ। এতবড় মুহাদ্দিস হয়েও হাদিসের ব্যাপারে একছত্র বস হয়েও শাফেঈ ফিকহ গ্রহণ করেছিলেন। তার সমসাময়িক হানাফি ব্যক্তিত্ব ছিলেন আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ.। এই মাকবারায় ঢোকার সাথে সাথেই চোখের সামনে যেন ভেসে উঠল আমার লাইব্রেরিতে সাজিয়ে রাখা ফাতহুল বারী। কল্পনায় রিলেট করছিলাম আসক্বালানী রহিমাহুল্লাহ দোয়াত কালিতে লিখে চলছেন ফাতহুল বারীর লাইনগুলো। ইয়া সুবহান!
আসক্বালানীকে চেনে না এমন মানুষ অপ্রতুল। তবুও দুয়েকটা মানাকিব বলি। আসক্বালানী রহিমাহুল্লাহ মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই কিতাবপত্র ঘাটাঘাটি শুরু করেন। বারুদের মত মেধাবী ছিলেন। সূরা মারইয়াম মুখস্থ করেছিলেন সেবয়সেই মাত্র একদিনে। প্রতিদিন কুরআনের বড় অংশ মুখস্থ করতেন। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার টেক্সট মুখস্থ করতেন সেই অল্প বয়সেই। আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে ইলমে হাদিসের এমন ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলেন যে হাদিসের আদ্যোপান্ত কিছুই বাকী রাখেননি। শাম থেকে ইয়েমেন সহ বহু দেশ সফর করেছেন হাদিসের জন্যই। এজন্যই তার উপাধি হয়ে গেছে আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস।
বিয়ে করেছিলেন চারটা। প্রথম স্ত্রী উনস খাতুনও ছিলেন মুহাদ্দিসাহ। প্রচুর ছাত্র গড়েছিলেন। ইবনে হাজার প্রধান বিচারপতির পদের অফার ফিরিয়ে দিয়ে দারস-তাদরীস ও লেখালেখিই বেছে নিয়েছিলেন। তার হাত ধরে রচিত হয়েছে এক মহাকাব্য – ফাতহুল বারী। এই গ্রন্থ রচনা শেষ করার পর গরু জবাই করে সবাইকে খাওয়া দাওয়াও করিয়েছিলেন।
জীবনের শেষদিকে কোথাও যেতেন না। শুধু লেখালেখি করতেন। ৮৫২ হিজরিতে আশি বছর বয়সে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে যান। বসে নামাজ পড়তেন। এই অসুস্থতায় তাকে সমসাময়িক সব বড় আলিম দেখতে গিয়েছিলেন। এই অসুস্থতাতেই তিনি ইন্তিকাল করেন। ইবনে তাইমিয়ার পর এত বড় জানাযা আর কারো হয়নি তখন। সুলতান ও অন্যান্য বড় আলিমগণ তার জানাযায় খাটিয়া ধরেন। সারা দেশ শোকে মুহ্যমান হয়ে যায়। বাজারঘাট ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি কাফিররা পর্যন্তও শোক করেছিলো। কারণ তিনি ছিলেন মিশরের এসেট।
আল্লাহ তায়ালা এই মহান ইমামের সাথে আমাদের হাশর করুন। জান্নাতে তার হাদিসের দরসে বসার তাওফিক দান করুন। আমিন।