ইমাম ফখরুদ্দিন জাইলাঈ রহিমাহুল্লাহ

এখানে শুয়ে আছেন হানাফি ফিকহের বিখ্যাত কিতাব কানযুদ দাকায়িকের সুপ্রসিদ্ধ ব্যাখাগ্রন্থ ‘তাবয়িনুল হাকায়িক ফি শারহি কানযিদ দাকায়িক’ কিতাবের লেখক আল্লামা ফখরুদ্দীন জাইলাঈ। কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন কিন্তু ‘কানযুদ দাকায়িক’ পড়েননি এমন কেউ নেই হয়তোবা। কদীম নিসাবে তো ফিকহের প্রথম পাঠটাই শুরু হয় কানযুক দাকাইক দিয়েই। সেই কানয বুঝতে সবাই তাবয়িনুল হাকায়িকের সহায়তা নিয়ে থাকে। কতশত বছর আগে ইমাম ফখরুদ্দিন জাইলাঈ রহিমাহুল্লাহ এই কাজ করে গেছেন ভাবতেই অবাক হই!

কায়রোর ক্বারাফায় শত শত কবরের মাঝে জীর্ণশীর্ণ এক কবর। খুঁজে বের করতে হয় এই ইমামের কবরখানা। অদূরেই আমর ইবনুল আস ও উকবা ইবনে আমির আল জুহাইনী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার আরামগাহ। পাশেই আছে জুন্নুন মিসরী ও মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়্যাহ রহিমাহুমাল্লাহর কবর। কিন্তু জাইলাঈ রহিমাহুল্লাহর কবরের দেয়ালে শুধু রং দিয়েই এবড়োখেবড়ো করে লেখা – উসমান জাইলাঈ। এই মহান ফকীহ কে ছিলেন একটু পরিচয় দিই।

তিনি ছিলেন ফখরুদ্দীন উসমান ইবন আলি ইবন ইউনুস আল-জাইলাঈ আল-হানাফি। মহান ফকিহ ও আলিম। ৭০৫ হিজরিতে কায়রোতে আগমনের পর বহু বছর তিনি ক্বারাফার খানকায় তালিম-ইফতা ও ফিকহ প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন। কায়রোতে এসেছিলেন সোমালিয়ার জাইলা এলাকা থেকে। এজন্যই তাকে জাইলাঈ বলা হয়। বহু মানুষ তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হন। ফিকহের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অবদান ছিল অনন্য। ফিকহ ও নাহু (আরবি ব্যাকরণ) এবং ফারায়েজে (উত্তরাধিকার বিদ্যা) তিনি ছিলেন সুপরিচিত। ছিলেন হানাফি মাযহাবের অন্যতম বিশিষ্ট ফকিহ। তিনি كنز الدقائق গ্রন্থের ওপর ছয় খণ্ডের তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা تبيين الحقائق في شرح كنز الدقائق রচনা করেন। এই কিতাবে তিনি গভীর গবেষণা-বিশ্লেষণ ও সমালোচনা-সংশোধনমূলক কাজ করেন। এই কিতাব আজও হানাফি ফিকহের মূল ব্যাখ্যাগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত।

তাঁর রচনাসমূহের মধ্যে প্রধান হলো:

১. تبيين الحقائق في شرح كنز الدقائق – তাবয়িনুল হাকায়িক

২. تركة الكلام على أحاديث الأحكام – হানাফি ফিকহে আলোচিত হাদীসসমূহের বিশ্লেষণ

৩. ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহর লেখা জামিউল কাবীরের ব্যাখা – শরহুল জামিয়িল কাবির।

সারাটা জীবন ফিকহ ফতোয়ার কাজে কাটিয়ে তাঁর মৃত্যু হয় ৭৪৩ হিজরির রমজান মাসে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত আমলের সওয়াব মহান ইমামের রুহে বখশে দিন। আমিন।